শেখ আশিকুন্নবী সজীব:
ফেনীতে সংলাপ নাট্য সংগঠনের নাটক “খাট্টা তামাশা” শুক্রবার (৬ অক্টোবর) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন মঞ্চে মঞ্চায়িত হয়েছে।
নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন কিশান মোশাররফ,সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নারায়ণ নাগ,মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ এবং প্রযোজনা অধিকর্তা ছিলেন সাইফ উদ্দিন মাহমুদ।
‘খাট্টা তামাশা’ নাটকের পটভূমিতে উঠে এসেছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কথা। দ্বীজাতি তত্ত্বের ভাওতা তুলে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা এবং ভারত পাকিস্তান ভাগ। ১৯৪৭-১৯৭১ সময়ের পরতে পরতে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর শাসন, শোষণ ও জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গণতন্ত্রের লড়াই সংগ্রাম এবং দীর্ঘ রক্তাক্ত অধ্যায়ের সিঁড়ি বেয়ে বাঙালী জাতির স্বাধীনতা অর্জন। কিন্তু স্বাধীন দেশে বারংবার গণতন্ত্রের লড়াইয়ে প্রান হারায় নুর হোসেনরা। কর্তৃত্ববাদের কাছে অধরাই থেকে যায় গণতন্ত্র। লোভের ফাঁদে ভুল রাজনীতির ছত্রছায়ায় অন্ধকার পথে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয় এ দেশের কিশোর, তরুণরা ও যুব সমাজ। বিয়ে নামক ধর্মীয় রীতিনীতিতে আশ্রয় ভয় আর মিথ্যের ফাঁদ। মোটা অংকের কাবিনের টাকা হয়ে উঠে যেন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার রক্ষাকবজ। এভাবে নাটকের কাহিনি গড়াতে থাকে দৃশ্য থেকে দৃশ্যের মায়াজালে। প্রকৃতি ধ্বংস হলে মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। মানুষের লোভ ও অদূরদর্শী ক্রিয়া কর্মের ফলে ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি। নাটকের কুশিলবের কন্ঠে সেই বেদনার চাপ ব্যাক্ত হয়েছে এই ভাবে- শহর গুলো হয়ে উঠছে এক একটা বিরান ভূমি। এই শহর গুলোর ভিতরে ছিলো গ্রাম। গ্রামের ভিতরে ছিলো। নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা, বন-বনানী। কোথায় যে সব উজাড় হয়ে গেল? গড়ে উঠছে অট্টালিকার উপর অট্টালিকা। এ ভাবে প্রকৃতিকে বাঁচানোর আকুতি নিবেদিত হয়েছে নাটকে।

বর্তমান সময়ের ভয়াবহ অবক্ষয় ও আতংকের নাম কিশোর গ্যাং। অপহরণ, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণের মত ভয়াবহ ঘটনায় কিশোরেরা হয়ে উঠছে এক শ্রেণীর বড় ভাইদের উপজিব্য শক্তি হয়ে। দুষ্টচক্র রাজনৈতিক ছদ্দাবরণের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে এই সব কিশোরেরা। এ রকম ক্ষোভ উচ্চকিত হয়েছে কুশিলবের কণ্ঠে- রাজনৈতিক শিক্ষা ও চর্চ্চাহীন মুনাফালোভী, কালোবাজারী, মাদককারবারী, আদমবেপারীরা হয়ে উঠছে নেতা। এদের ছত্রছায়ায় শুধু রাজনীতিতেই ঘটছে ভিন্নতর মেরুকরণ তা নয়, আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সব কিছুতেই একচ্ছত্র আধিপত্য ওদের। ব্যাংক গুলো লুটে খাচ্ছে, বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, এমনকি পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল, সেখানেও ওদের রাহুর থাবা। কোথায় নেই ওরা?
রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলো হবে এক একটা পাঠাগারের ন্যায়। ক্ষমতার মসনদ হবে জনতার আশা আকাঙ্খার বাতিঘর। কিন্তু আমরা যা শিখেছি, যা জেনেছি, এখন দেখছি সবই তার উল্টো। এখন রাজনীতি হয়ে উঠছে যেন টাকা কামানোর মেশিন। পাড়ার বখাটে গুন্ডা ছেলেটা হয়ে উঠছে নেতা। কলেজ ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছেলে মেয়েরা রাজনীতিতে আসছেনা। আসলেও ওরা এইসব টোকাই মাস্তানদের কাছে পাত্তা পাচ্ছেনা। যে রাজনীতি এসেছে মানুষের কল্যাণের জন্য, সেই রাজনীতির বলি চড়ছে মানুষ। তাহলে মানুষের মুক্তি কোথায়? এরকম প্রশ্ন রেখেই শেষ অংকে গড়ায় নাটক।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- বিষ্ণু পদ চক্রবর্তী, নারায়ণ নাগ,কিশান মোশাররফ, অজয় দাশ,সমর নাথ,জয় নাগ,হাসনাত, জাহিদ, পায়েল চৌধুরী,শংকর, শান্ত, দীপংকর,দৌলত আরা দোলা, রুদ্র,এনামুল হক মারুফ।
পুরো মিলনায়তন ভর্তি দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।
নাটকটি ছিল সংলাপ নাট্য সংগঠনের ২৪তম প্রযোজনা।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









